The old BdForum.Net has now moved to Foorti.Org for better branding. There you can chat, shout, play games, and connect with old friends.

শেখ সাদীর গল্প: দুই বন্ধু

Story
সে দেশে ছিল দুইজন সাধু ব্যক্তি। একজন ছিলো বেশ মোটাসোটা। খেতে খুব পছন্দ করত। দিনে দুইবার ভালো ভালো খাবার পেটপুরে না খেলে তার শান্তি হত না। অন্যজন ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা। শরীর ছিল লিকলিকে। হাড়-জিরজিরে দেহ। খাওয়াদাওয়া একদম পছন্দ করতো না। দুইদিন পরে একদিন খেত সে। দুজনের আবার ভারি বন্ধুত্ব। একবার তারা একসঙ্গে দেশভ্রমণে বের হল। পাহাড়- পর্বত ছাড়িয়ে, বনজঙ্গল পেরিয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগল তারা। নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা। খুব ভালো লাগছিল তাদের। আনন্দে আনন্দে কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন নতুন এক শহরে এলো তারা। শহরে ঢোকামাত্র গ্রেফতার করা হলো তাদের। বাদশাহ’র সেপাইরা ধরে নিয়ে গেল কাজির দরবারে। বিচারে রায় দেয়া হল- এরা গুপ্তচর। সাধু দুইজন বলতে থাকে: আমরা নিরপরাধ, আমাদের কোনো দোষ নেই। আমরা দেশে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমরা নিরীহ মানুষ। কিন্তু তাদের কথা কেউ শুনল না। তাদের দুজনকে বন্দি করে রাখা হল একটা চোর-কুঠুরিতে। দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। না-খেতে পেয়ে ওরা যেন মারা যায়- এর চেয়ে ভয়ংকর শাস্তি আর কী হতে পারে? কিছুদিন পরে অবশ্য প্রমাণ পাওয়া গেল, সেই দুজন আসলে গুপ্তচর নয়। তারা সাধু ব্যক্তি। মনের আনন্দে বেরিয়েছে দেশ ঘুরতে। বাদশাহ’র লোকেরা গেল বন্দিদের মুক্ত করতে। দরজা ভেঙে উদ্ধার করতে হবে ওদের। কিন্তু এতদিন না খেয়ে থাকলে মানুষ তো বাঁচতে পারে না। নিশ্চয়ই ওরা বেঁচে নেই। দরজা খুলে অবাক হলো সেপাইরা। একজন তখনও বেঁচে আছে। যে বেচারা হাড়-জিরজিরে, রোগা-পটকা দেহ সে-ই মারা যায় নি। মোটাজন পটল তুলেছে। সকলেই অবাক। তখন একজন জ্ঞানী লোক বললো, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মোটা লোকটাই মারা যাবে। কারণ সে ছিল ভোজনরসিক। খাবার ছাড়া তার একমুহূর্ত চলে না। খাবার না পেয়ে সে মারা গেছে। কিন্তু শুকনো লোকটা খুব সংযমী। না খেয়ে থাকার অভ্যাস তার আছে। সে বন্দি কারাগারে না খেয়েও বেঁচে থাকতে পেরেছে। জ্ঞানী লোকটি তখন সকলের উদ্দেশে বললো, যারা অভাবের মধ্যে দিন কাটায় তারা অভাবকে সহ্য করতে পারে। কিন্তু যারা ভোগবিলাসে জীবন কাটায় সামান্য বিপদে পড়লেই কাতর হয়ে পড়ে। এমনকি মারাও যায়। ওদের দুজনের ভাগ্যে সেরকম ঘটনা ঘটেছে।