The old BdForum.Net has now moved to Foorti.Org for better branding. There you can chat, shout, play games, and connect with old friends.

আইসক্রিমওয়ালার হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প

Story
প্রতিদিন একটা ঘণ্টার আওয়াজে পাড়া মুখর হয়ে উঠত। সেটা ছিল এক আইসক্রিমওয়ালার আগমনের ইঙ্গিত। একজন সাদাসিধে মানুষ, যিনি ঠেলাগাড়ি ঠেলে শহরের এক অভিজাত পাড়ায় আইসক্রিম বিক্রি করতেন। সেই পাড়ার বাড়িগুলো ছিল বড়ো বড়ো, চোখ ধাঁধানো। সেখানে থাকত ধনী পরিবারের লোকেরা—শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, দামি গাড়ি আর খেলনার অভাব ছিল না। তবুও, সেই চাকচিক্যের ভিড়ে ছিল এক খুপরি ঘর, যেখানে থাকত এক গরিব পরিবার। স্বামীহীন মা তার চার বছরের ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে দিন গুজরান করতেন। ছেলেটির নাম ছিল রাহুল। রোজ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আইসক্রিমওয়ালাটার দিকে তাকিয়ে থাকত সে। তার চোখে ছিল একরাশ লালসা, স্বপ্ন আর অভিমান—যা হয়তো কেউ খেয়াল করত না, কিন্তু আইসক্রিমওয়ালার চোখ এড়ায়নি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সে এল। কিন্তু এবার আর নিজেকে থামাতে পারল না। গাড়িটা থামিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল সেই ছোট জানালার দিকে। সে কোমল কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল, “বাবু, তুমি তো আমাকে রোজ দেখো, আমার আইসক্রিমের আওয়াজও শোনো… কিন্তু কোনোদিন কেনা তো দূরের কথা, বাইরে এসেও দাঁড়াও না। তোমার কি আইসক্রিম ভালো লাগে না?” রাহুল নিচু গলায়, কিন্তু চোখে ঝকমকে স্বপ্ন নিয়ে বলল, “ভালো তো খুবই লাগে… কিন্তু মায়ের কাছে কখনও টাকা থাকে না। তাই আমি শুধু জানালার ফাঁক দিয়ে তোমায় দেখি, আর মনে মনে ভাবি, যদি একদিন খেতে পারতাম…” এই কথাগুলো যেন বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁধে গেল। আইসক্রিমওয়ালার চোখে জল চলে এল। সে ছেলেটির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “বাবা, আজ থেকে তুমি যেদিন খুশি আমার কাছ থেকে আইসক্রিম নিয়ে যেও। আমি তোমার কাছ থেকে কোনোদিনও টাকা চাইব না। তুমিও তো আমার সন্তানের মতো।” রাহুল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তার জীবনে এই প্রথম কেউ এমনভাবে তাকে ভালোবাসার স্বাদ দিলো—টাকার ছাড়াও ভালোবাসা যে হয়, সেটা সে বুঝল। আর ওই দিন থেকেই রাহুলের মুখে লেগে থাকত একটা ছোট্ট কিন্তু অমূল্য হাসি। আর সেই আইসক্রিমওয়ালার ঠেলায়ও ছিল একটা মিষ্টি শান্তি—একটা ছোট মুখে হাসি ফোটানোর তৃপ্তি। এই ছোট্ট গল্পটা আমাদের শেখায়—ভালোবাসা কখনও দামে মাপা যায় না। সামান্য একটু ভালোবাসা, একটু বিনামূল্যের হাসি, হয়তো কারও জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার হয়ে উঠতে পারে। মনুষ্যত্বই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।