The old BdForum.Net has now moved to Foorti.Org for better branding. There you can chat, shout, play games, and connect with old friends.

শিক্ষামূলক গল্প: এক টুকরো রুটি

Story
এক ভয়ংকর ও কঠিন দিনে, যখন চারপাশে কিছুই সুন্দর ছিল না, মাত্র দশ বছরের এক ছোট ছেলে অনাথ আশ্রম থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে তার প্রতি অন্যায়, অপমান ও অজানা ভয়ের কারণে সে আর থাকতে পারেনি। তাই সে অজানার পথে হাঁটতে লাগল, কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না—শুধু পালাতে চেয়েছিল। রাত ঘনিয়ে এলে ক্লান্তি ও ক্ষুধা চরমে পৌঁছালো। এক রেস্তোরাঁর সামনে এসে সে কিছু খাবারের আশায় তাকাল, কিন্তু সেখানে পেল শুধুই অপমান। তার ময়লা কাপড় দেখে কেউ কেউ ভয় পেতে লাগল, আবার কেউ তিরস্কার করল। হতাশ হয়ে, নিরুপায় হয়ে, সে এক কোণে বসে পড়ল। মনে পড়তে লাগল তার ফেলে আসা দিনগুলোর কথা—যখন তার জীবন ভালোবাসা ও আনন্দে পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনা তার বাবা-মাকে কেড়ে নিয়েছিল, আর তাকে ছেড়ে দিয়েছিল একা, নিষ্ঠুর এই পৃথিবীর হাতে। কেউ তাকে ভালোবাসার জন্য ছিল না, কেউ তার খোঁজ রাখত না। হঠাৎ এক অপূর্ব গন্ধ তার মনোযোগ কেড়ে নিল—তাজা রুটির গন্ধ! ক্ষুধার তাড়নায় সে গন্ধের উৎস খুঁজতে লাগল। দেখতে পেল, এক মাঝবয়সী মহিলা রুটি বানাচ্ছেন ও বিক্রি করছেন। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল ও ক্লান্ত স্বরে বলল— — “আমি খুব ক্ষুধার্ত, একটু রুটি চাই। কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা নেই।” মহিলা মায়াভরা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বললেন— — “বাবা, যত খুশি খাও। খেতে টাকা লাগে না। কিন্তু আমি যদি আজ তোমাকে খাওয়াই, হয়তো কালও খাওয়াব, তবে তুমি কি সারা জীবন এভাবেই বাঁচবে? দেখছি, তুমি একা আছো। তোমার গল্পটা কী?” ছেলেটি তার দুঃখের কাহিনি শোনালো। মহিলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন— — “এটাই তো জীবনের বাস্তবতা, বাবা। কিন্তু তুমি এভাবে বেঁচে থাকতে পারো না। এসো আমার সাথে, দেখি কী করা যায়। আগামীকাল, ইশ্বর চাইলে, সবকিছু বদলে যাবে।” পরদিন সকালে, ছেলেটি খাওয়া দাওয়া করে কিছুটা শক্তি ফিরে পেল । ছেলেটিকে মহিলা কাজ শেখাতে লাগলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি এক ব্যবসায়ীর কাছে তাকে কাজের সুযোগ করে দিলেন। ছেলেটি অল্প বয়সেই কঠোর পরিশ্রম করতে লাগল। সে বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও পরিশ্রমী ছিল। দিনে কাজ করত, আর রাতে ফিরে এসে মহিলাকে সাহায্য করত—যাকে সে ধীরে ধীরে মা বলে ভাবতে শুরু করেছিল। বছর কেটে গেল। ছেলেটি বড় হলো, সাহসী ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠল। তার সততা ও পরিশ্রম দেখে মানুষ তাকে বিশ্বাস করতে লাগল। একদিন সে মহিলার কাছে এসে বলল— — “আমি বিদেশে একটা চাকরির সুযোগ পেয়েছি। তুমি কি আমার সঙ্গে যাবে?” মহিলা হেসে বললেন— — “যাও, বাবা। তোমার জন্য একটা নতুন জীবন অপেক্ষা করছে। আমি যদি বেঁচে থাকি, আর তুমি বদলে না যাও, তাহলে আমাকে আবার খুঁজে পাবে।” ছেলেটি মহিলাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, তার চোখে জল টলমল করছিল। সে কথা দিল, যেকোনো পরিস্থিতিতেই সে তাকে তার মা হিসেবে মনে রাখবে। এরপর সে বিদায় নিয়ে চলে গেল জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে। তার সততা, বুদ্ধিমত্তা ও পরিশ্রম তাকে ধীরে ধীরে সফলতার চূড়ায় নিয়ে গেল। পনেরো বছর পর, সে নিজেই একটি বড় কোম্পানির মালিক হয়ে উঠল। কিন্তু সে কখনোই সেই মহিলাকে ভুলে যায়নি। নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করত, তবে যুদ্ধের কারণে বহু বছর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অবশেষে, সে দেশে ফিরে এল। প্রথম কাজই ছিল মহিলাকে খুঁজে বের করা। সে বাজারে গিয়ে দেখল, সেই রুটির দোকান আর নেই। স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে জানতে চাইল। লোকটি বলল— — “তুমি অনেক দেরি করে ফেলেছো, ভাই। তিনি হাসপাতালে ভর্তি, হার্টের অস্ত্রোপচার দরকার। প্রচুর টাকা লাগবে, আর আমরা সবাই মিলে কিছু টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছি।” কথা শুনেই ছেলেটির চোখে জল চলে এলো। এক মুহূর্ত দেরি না করে সে হাসপাতালে ছুটে গেল। দেখল, মহিলা বিছানায় ঘুমিয়ে আছেন, যেন এক দেবদূত। সে তার পাশে বসে ফিসফিস করে বলল— — “আমি ফিরে এসেছি… ভয় পেও না, মা। আমি কখনো তোমাকে ভুলব না।” সে চিকিৎসার সমস্ত খরচ মিটিয়ে দিল। কয়েক দিন পর মহিলা সুস্থ হয়ে উঠলেন। দুর্বল কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন— — “তুমি কে?” কিন্তু তার হৃদয় তাকে আগেই চিনে ফেলেছিল। ছেলেটি চোখের জল সামলাতে সামলাতে হাসল, আর বলল— — “আমি তোমার ছেলে, মা।” মহিলা কেঁদে ফেললেন, তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। ফিসফিস করে বললেন— — “আমি অনেক জনকে সাহায্য করেছি, কিন্তু কেউ ফিরে আসেনি। আমি ভাবতাম, তুমিও চলে গিয়েছো। কিন্তু আমি সবসময় প্রার্থনা করতাম, তুমি যেন বদলে না যাও।” নৈতিকতা: আজ যে ভালো কাজ তুমি করছো, তার ফল তুমি একদিন নিশ্চয়ই পাবে। কেউ যদি বলে, “ভালো করলেই খারাপ ফল পাও,” তা কখনো সত্য নয়। বরং বিশ্বাস রাখো, “ভালো করলে, ভালোই ফিরে আসে।”